NIMAI DAS, in their own words
আমি ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে Dreams IT Park-এ যোগদান করেছিলাম।
কবে Dreams IT Park-এ যোগ দিয়েছেন?
আমি ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে Dreams IT Park-এ যোগদান করেছিলাম।
কেন এসেছিলেন?
আমি Dreams IT Park-এ এসেছিলাম ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে বাস্তব জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে এবং নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে। আমার লক্ষ্য ছিল প্রযুক্তিনির্ভর এই ডিজিটাল জগতে নিজেকে একজন দক্ষ পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তোলা, নিজের একটি পরিচয় তৈরি করা এবং জীবনে ভালো কিছু অর্জন করা। আমার প্রিয় মেন্টর ও Dreams IT Park-এর CEO-এর অনুপ্রেরণায় আমি বিশ্বাস করতে শিখেছি যে, সঠিক পরিকল্পনা, কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব। তাই আমি এখানে এসেছি শুধু শেখার জন্য নয়, বরং নিজেকে তৈরি করতে, নিজের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এবং ভবিষ্যতে একজন সফল মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে।
প্রথম দিনগুলো কেমন ছিল?
Dreams IT Park-এ আমার প্রথম দিনগুলো ছিল আনন্দ, উত্তেজনা, ভয় এবং নতুন স্বপ্নে ভরা। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল চা-বাগান থেকে সিলেটে এসে নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া আমার জন্য সহজ ছিল না। এর আগে কখনো বাড়ির বাইরে গিয়ে কাজ বা চাকরি করার অভিজ্ঞতা আমার ছিল না। তাই Dreams IT Park-এ আসা ছিল আমার জীবনের প্রথম বড় পদক্ষেপ এবং নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার একটি সাহসী সিদ্ধান্ত।
ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল জীবনে ভালো কিছু করা। কিন্তু অনেকেই আমাকে বলতেন, এত পড়াশোনা করে কী হবে, চা-বাগানে গিয়ে চা-পাতা তোলার কাজ করো। পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আমি শ্রমিকের কাজও করেছি এবং পরিশ্রমের যথাযথ পারিশ্রমিক না পাওয়ার অভিজ্ঞতাও হয়েছে। এসব ঘটনা আমাকে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতা দিয়ে জীবনে এগিয়ে যাব।
সেই লক্ষ্য নিয়েই Dreams IT Park-এ ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার জন্য এসেছিলাম। প্রথম দিকে সবকিছুই নতুন মনে হতো। মনে অনেক প্রশ্ন ছিল আমি কি পারব? এই ডিজিটাল জগতে কি নিজের একটি পরিচয় তৈরি করতে পারব? কিন্তু আমার শেখার আগ্রহ এবং জীবনে সফল হওয়ার ইচ্ছা আমাকে সাহস জুগিয়েছে।
বিশেষ করে Dreams IT Park-এর CEO এবং আমার প্রিয় মেন্টর Akhlakul Ambia Raju স্যারের অনুপ্রেরণা আমাকে নতুনভাবে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে। তাঁর মূল্যবান কথাগুলো থেকে বুঝতে পেরেছি, নিজের বর্তমান পরিস্থিতি কখনোই ভবিষ্যতের সীমা হতে পারে না। প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, পরিশ্রম এবং নিজের ওপর বিশ্বাস।
আজ আমি মনে করি, Dreams IT Park-এ আসা আমার জীবনের অন্যতম সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। এখানে আমার যাত্রা শুধু ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করা, আত্মবিশ্বাস তৈরি করা এবং বড় স্বপ্ন দেখার সাহস অর্জনেরও একটি অধ্যায়।
আমার বিশ্বাস, আমার মতো চা-বাগান থেকে উঠে আসা তরুণদের জন্যও নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলতে পারে। আমার পথচলা এখনো চলমান, আর আমি চাই একদিন নিজের অর্জনের মাধ্যমে পরিবারকে গর্বিত করতে এবং অন্যদেরও স্বপ্ন পূরণের সাহস জোগাতে।
কে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে?
Dreams IT Park-এ আমার নতুন পথচলার শুরুতে যাঁরা আমাকে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা ও মানসিক সমর্থন দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে Nahid Hussain, Biplob Chandra Roy, Suvra Dhar এবং Md. Rajul Amin বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। নতুন পরিবেশে এসে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া এবং একা থাকার সময় তাঁদের সহযোগিতা আমার জন্য অনেক বড় বিষয় ছিল। তাঁদের আন্তরিকতা, সহায়তা ও উৎসাহ আমাকে নতুন পরিবেশে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতে এবং নিজের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে।
জীবনের নতুন একটি অধ্যায় শুরু করার সময় পাশে এমন কিছু মানুষ থাকা সত্যিই সৌভাগ্যের বিষয়, যাঁরা কঠিন সময়ে সহযোগিতা করেন এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেন। তাঁদের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আমার এই পথচলায় তাঁদের সহযোগিতা ও সমর্থন সবসময়ই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
প্রথম অর্ডার পাওয়ার অনুভূতি কেমন ছিল?
আমার জীবনের প্রথম অর্ডার পাওয়ার অনুভূতি ছিল সত্যিই আনন্দের, রোমাঞ্চকর এবং আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের জগতে শেখার পাশাপাশি বাস্তবে কাজ করার সুযোগ পাওয়া আমার কাছে ছিল একটি বিশেষ মুহূর্ত। আমার প্রথম অর্ডারটি পেতে আমাকে সহযোগিতা করেছিলেন Nahid Hussain ভাই, তাঁর এই সহযোগিতা আমার কাছে শুধু একটি অর্ডার পাওয়া নয়, বরং নিজের দক্ষতার ওপর বিশ্বাস তৈরি করার প্রথম ধাপ ছিল।
প্রথম অর্ডার পাওয়ার পর আমার মনে নতুন আশা ও অনুপ্রেরণা তৈরি হয়। মনে হয়েছিল, আমিও পারব, আমিও আমার শেখা দক্ষতা কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারব। সেই মুহূর্ত আমাকে আরও মনোযোগ দিয়ে শেখার এবং নিজের কাজের মান উন্নত করার অনুপ্রেরণা দিয়েছিল।
আমি Nahid Hussain ভাইয়ের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ, কারণ তিনি আমাকে প্রথম অর্ডারের সুযোগ করে দিয়ে আমার পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। আমার বিশ্বাস, জীবনের এই প্রথম অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করার পথে একটি স্মরণীয় প্রেরণা হয়ে থাকবে।
আপনার মেন্টর সম্পর্কে লিখুন
আমার জীবনের অন্যতম অনুপ্রেরণাদায়ী মানুষ হলেন Akhlakul Ambia Raju স্যার, Dreams IT Park-এর CEO এবং আমার প্রিয় মেন্টর। তাঁর কাছ থেকে আমি শুধু ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে শেখার অনুপ্রেরণাই পাইনি, বরং জীবনে বড় স্বপ্ন দেখা, সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা এবং সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার শিক্ষাও পেয়েছি।
একসময় আমার মনে সফল হওয়ার প্রবল ইচ্ছা থাকলেও বড় স্বপ্ন দেখার সাহস ছিল কম। কিন্তু তাঁর মূল্যবান কথা, দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণা আমার চিন্তাভাবনায় ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। তিনি আমাকে বুঝতে শিখিয়েছেন, মানুষের বর্তমান পরিস্থিতি তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না বরং নিজের প্রতি বিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য এবং শেখার মানসিকতা মানুষকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়।
আমার কাছে তিনি শুধু একজন মেন্টর নন, বরং স্বপ্ন দেখতে শেখানো একজন পথপ্রদর্শক। তাঁর কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা ও অনুপ্রেরণাকে সঙ্গে নিয়ে আমি নিজেকে দক্ষ করে তুলতে এবং জীবনে ভালো কিছু অর্জন করতে চাই। **আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ Akhlakul Ambia Raju স্যারের প্রতি, যিনি আমাকে নিজের স্বপ্নের প্রতি বিশ্বাস রাখতে এবং সেই স্বপ্ন পূরণের পথে সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছেন।
সব মিলিয়ে এখানকার পরিবেশ কেমন?
সব মিলিয়ে Dreams IT Park-এর পরিবেশ আমার কাছে অত্যন্ত সুন্দর, আন্তরিক ও অনুপ্রেরণামূলক। এখানে শুধু কাজ শেখা বা নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করার সুযোগই নেই, বরং রয়েছে একে অপরকে সহযোগিতা করা, সম্মান করা এবং একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার সুন্দর মানসিকতা। এখানকার প্রত্যেক সদস্য আমাকে অনেক স্নেহ করেন এবং আপনজনের মতো ভালোবাসেন। বিশেষ করে, আমাদের অ্যাডমিন ভাইয়েরা আমাকে খুব স্নেহ করেন ও বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন, যা আমাকে নতুন পরিবেশে আপন করে নিতে অনেক সাহায্য করেছে।
এখানে এসে আমার কখনো মনে হয় না যে আমি সবার থেকে আলাদা। বরং আমরা সবাই একটি পরিবারের সদস্যের মতো একসঙ্গে থাকি, একে অপরের পাশে দাঁড়াই এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিই। আমার কাছে Dreams IT Park শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি একটি পরিবার। এই আন্তরিকতা ও ভালোবাসা আমার কাছে অনেক মূল্যবান।
সবচেয়ে কঠিন কী ছিল?
আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন বিষয় ছিল নিজের পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে সম্পূর্ণ নতুন একটি জায়গায় এসে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য সংগ্রাম শুরু করা। চা-বাগানের সাধারণ পরিবেশ থেকে সিলেটে Dreams IT Park-এ আসা আমার জন্য ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এর আগে কখনো বাড়ির বাইরে এসে কাজ বা চাকরি করার অভিজ্ঞতা ছিল না। তাই নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া, পরিবার থেকে দূরে থাকা এবং একই সঙ্গে নিজের লক্ষ্য পূরণের জন্য পরিশ্রম করা সহজ ছিল না।
এর পাশাপাশি ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের নতুন নতুন বিষয় শেখা, নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আশা ধরে রাখাও ছিল আমার পথচলার গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। তবে আমার স্বপ্ন, নিজের প্রতি বিশ্বাস এবং আমার মেন্টর ও এখানকার সবার সহযোগিতা আমাকে সাহস জুগিয়েছে।
কী কী শিখেছেন?
Dreams IT Park-এ এসে আমি ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের বাস্তব জ্ঞান ও বিভিন্ন কাজের দক্ষতা অর্জন করার সুযোগ পেয়েছি। পাশাপাশি শিখেছি কীভাবে সঠিক পরিকল্পনা করতে হয়, সময়ের মূল্য বুঝতে হয়, দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হয় এবং ধৈর্য ও পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হয়। এখানকার CEO, মেন্টর ও সহকর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া অনুপ্রেরণা আমাকে আত্মবিশ্বাসী হতে এবং বড় স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে।
এখন কেমন আছেন?
বর্তমানে আমি Dreams IT Park-এ খুব ভালো আছি। এখানকার সবার স্নেহ, ভালোবাসা ও সহযোগিতায় নিজেকে একটি পরিবারের সদস্য মনে হয়। প্রতিদিন নতুন কিছু শিখছি, নিজের দক্ষতা বাড়াচ্ছি এবং স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছি। আমি আশাবাদী, এখান থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা আমাকে ভবিষ্যতে সফল হতে সাহায্য করবে।
আপনার স্বপ্ন কী?
আমার স্বপ্ন হলো একজন দক্ষ ও সফল ডিজিটাল মার্কেটিং পেশাজীবী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং নিজের যোগ্যতায় একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। পাশাপাশি, আমি চাই আমার সাফল্যের মাধ্যমে পরিবারকে গর্বিত করতে এবং চা-বাগানসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণদের অনুপ্রাণিত করতে, যেন তারাও বড় স্বপ্ন দেখতে ও নিজেদের জীবনে ভালো কিছু অর্জন করতে সাহস পায়।
Dreams IT Park সম্পর্কে আর কিছু বলার থাকলে লিখুন
Dreams IT Park আমার কাছে শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি আমার স্বপ্ন দেখা, নতুন কিছু শেখা এবং নিজেকে গড়ে তোলার একটি সুন্দর পরিবার। এখানকার CEO, মেন্টর, অ্যাডমিন ভাই ও সকল সদস্যের স্নেহ, ভালোবাসা ও সহযোগিতার জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।
“যারা Dreams IT Park-এ আসতে চান, তাঁদের প্রতি আমার পরামর্শ হলো নিজের স্বপ্নের প্রতি বিশ্বাস রাখুন, শেখার মানসিকতা নিয়ে আসুন এবং ধৈর্য ও পরিশ্রমের সঙ্গে কাজ করুন। এখানে শুধু দক্ষতা অর্জন নয়, নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো ও ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগও রয়েছে।”

