Afsar Hossan, in their own words
আমি সবসময় নতুন কিছু শেখার প্রতি আগ্রহী এবং নিজের জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে জীবনে এগিয়ে যেতে চাই। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ডিজিটাল মার্কেটিং ও ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে বাস্তব জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের উদ্দে…
কবে Dreams IT Park-এ যোগ দিয়েছেন?
২৬ জুলাই ২০২৬
কেন এসেছিলেন?
আমি সবসময় নতুন কিছু শেখার প্রতি আগ্রহী এবং নিজের জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে জীবনে এগিয়ে যেতে চাই। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ডিজিটাল মার্কেটিং ও ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে বাস্তব জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের উদ্দেশ্যে ড্রিমস আইটি পার্কে ভর্তি হয়েছি। আমার স্বপ্ন হলো নিজেকে একজন দক্ষ ও সফল ফ্রিল্যান্সার হিসেবে গড়ে তোলা এবং নিজের যোগ্যতা কাজে লাগিয়ে অনলাইন জগতে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ তৈরি করা।
প্রথম দিনগুলো কেমন ছিল?
আমার জীবনের শুরুর দিনগুলো ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং ও অভিজ্ঞতায় ভরপুর। জীবনে প্রথমবারের মতো বাড়ি থেকে দূরে আসা, নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া এবং নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া সবকিছুই ছিল আমার জন্য একেবারে নতুন। তার ওপর, কম্পিউটার সম্পর্কে আমার তেমন কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা বা ধারণা ছিল না। তাই প্রথম দিন থেকেই মনে কিছুটা ভয়, দ্বিধা ও অনিশ্চয়তা কাজ করছিল। কীভাবে সবকিছু শিখব এবং নতুন পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেব, তা নিয়ে কিছুটা চিন্তিত ছিলাম। তবে মনে দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, ধৈর্য, চেষ্টা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে একদিন সব বাধা অতিক্রম করে নিজের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।
কে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে?
আমার এই নতুন পথচলায় নাহিদ ভাই, মালেকুল ইসলাম ভাই, বাবুল আক্তার, জনি ভাই, আশিক ভাই এবং মহসিন আকন ভাই আমাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা ও উৎসাহ দিয়েছেন। তাঁদের আন্তরিক সহযোগিতা, সুন্দর পরামর্শ এবং অনুপ্রেরণা আমার জন্য অনেক মূল্যবান ছিল। নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে এবং কম্পিউটার ও ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার পথে এগিয়ে যেতে তাঁদের সহায়তা আমাকে অনেক সাহস ও আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। তাঁদের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।
প্রথম অর্ডার পাওয়ার অনুভূতি কেমন ছিল?
প্রথম অর্ডার পাওয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। সত্যিই, এটি ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয়, আনন্দময় এবং গর্বের মুহূর্তগুলোর একটি। নিজের পরিশ্রম, মেধা ও দক্ষতার মাধ্যমে জীবনের প্রথম ৫০ ডলারের অর্ডার পেয়ে যে আনন্দ, আত্মবিশ্বাস ও ভালো লাগা অনুভব করেছিলাম, তা কখনো ভুলে যাওয়ার মতো নয়। আজও সেই বিশেষ মুহূর্তটির কথা মনে পড়লে হৃদয়ে একই রকম আবেগ, আনন্দ এবং নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জাগে। এটি শুধু একটি অর্ডার ছিল না, বরং আমার স্বপ্ন পূরণের পথে প্রথম সাফল্য এবং ভবিষ্যতে আরও বড় কিছু অর্জনের এক নতুন প্রেরণা।
আপনার মেন্টর সম্পর্কে লিখুন
আমার প্রিয় মেন্টর আখলাকুল আম্বিয়া রাজু স্যারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা।
আমার জীবনে ফ্রিল্যান্সিং শেখার এবং নিজেকে একজন দক্ষ ফ্রিল্যান্সার হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ করে দেওয়ার পেছনে রাজু স্যারের অবদান সত্যিই অসামান্য। তিনি যদি এমন একটি সুন্দর ও কার্যকর শেখার পরিবেশ তৈরি না করতেন, তাহলে হয়তো আমার পক্ষে ফ্রিল্যান্সিং জগতে আসার এবং নতুন কিছু শেখার সুযোগ তৈরি হতো না।
স্যারের কাছ থেকে আমি শুধু ফ্রিল্যান্সিং নয়, বরং জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পেয়েছি। বিশেষ করে যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরে সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা এবং প্রতিটি বাধাকে নতুন সম্ভাবনায় রূপান্তর করার যে মানসিকতা তাঁর মধ্যে রয়েছে, তা আমাকে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করে।
একজন ভালো মেন্টর শুধু পথ দেখান না, বরং একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণের সাহস ও আত্মবিশ্বাসও তৈরি করে দেন। রাজু স্যার আমার কাছে তেমনই একজন অনুপ্রেরণাদায়ী মানুষ।
পরিশেষে, মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন আমার প্রিয় স্যার ও তাঁর পরিবারের সকল সদস্যকে সুস্থতা, নেক হায়াত, সুখ-শান্তি এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফলতা দান করেন। স্যারের প্রতি রইল আমার অন্তরের গভীর থেকে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও অশেষ কৃতজ্ঞতা।
সব মিলিয়ে এখানকার পরিবেশ কেমন?
সব মিলিয়ে এখানকার পরিবেশ আমার কাছে অত্যন্ত ভালো ও মনোমুগ্ধকর। সিনিয়র ভাইদের সহযোগিতা, সবার আন্তরিকতা, সুন্দর ল্যাব ও রুমের পরিবেশ, মানসম্মত খাবার এবং শেখার উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধা সবকিছুই প্রশংসনীয়। ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গড়ার জন্য এমন সুন্দর ও সহযোগিতাপূর্ণ পরিবেশ পেয়ে আমি সত্যিই অনেক সন্তুষ্ট ও আনন্দিত।
সবচেয়ে কঠিন কী ছিল?
ড্রিমস আইটি পার্কে আসার পর আমার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ধৈর্য ধরে নিয়মিত কাজ শেখা ও নিজের লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকা। অনেক বাধা ও কঠিন সময় পার করতে হয়েছে, তবে হাল ছেড়ে দিইনি। আলহামদুলিল্লাহ, নিজের চেষ্টা ও ধৈর্যের মাধ্যমে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পেরেছি।
কী কী শিখেছেন?
Dreams IT Park-এ এসে আমি সবচেয়ে বেশি শিখেছি নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস রাখা, ধৈর্য ধরে কাজ করা এবং নিজের দক্ষতাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো। আগে কম্পিউটার সম্পর্কে তেমন ধারণা না থাকলেও IT সেক্টরে কাজ করার আগ্রহ ছিল। এখানে এসে নতুন অনেক কিছু শেখার পাশাপাশি নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতার ওপর বিশ্বাস তৈরি হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, এই শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে এবং স্বপ্ন পূরণে অনেক সাহায্য করবে।
এখন কেমন আছেন?
Dreams IT Park-এ এসে এখন আমি অনেক ভালো আছি। এখানে অনেক সুন্দর মুহূর্ত কাটিয়েছি, নতুন অনেক কিছু শিখেছি এবং সবার কাছ থেকে আন্তরিকতা ও ভালোবাসা পেয়েছি। তবে সময় খুব দ্রুত চলে যাচ্ছে বলে এখন একটু মন খারাপও হয়। এখানকার প্রতিটি মুহূর্ত ও স্মৃতি আমার কাছে অনেক মূল্যবান। সব মিলিয়ে Dreams IT Park আমার জীবনের একটি সুন্দর ও স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।
আপনার স্বপ্ন কী?
আমার স্বপ্ন হলো একজন সৎ, যোগ্য ও আত্মনির্ভরশীল মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। নিজের দক্ষতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে একটি সুন্দর ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে চাই এবং পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, সততা, ধৈর্য ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে একদিন নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারব। মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে নিজের লক্ষ্যের পথে এগিয়ে যাওয়াই আমার জীবনের মূল স্বপ্ন।
Dreams IT Park সম্পর্কে আর কিছু বলার থাকলে লিখুন
Dreams IT Park শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি একটি পরিবার। এখানকার আন্তরিক পরিবেশ ও সবার সহযোগিতা সত্যিই প্রশংসনীয়। এই পরিবারের অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত। আমার দেখা সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। আমি Dreams IT Park-এর উত্তরোত্তর সাফল্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।
যারা Dreams IT Park-এ আসতে চান, তাদের বলব নিজের স্বপ্নের প্রতি বিশ্বাস রাখুন এবং শেখার আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে আসুন। শুরুতে কঠিন মনে হলেও ধৈর্য ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সবকিছু শেখা সম্ভব। আমি নিজেও তেমন কিছু জানতাম না, কিন্তু এখানে এসে অনেক কিছু শিখছি। আমার কাছে Dreams IT Park নিজের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যৎ গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
Afsar Hossan
