Nurul Amin Ruku: নিজের কথায়
আমি ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসের ৫ তারিখে এসেছি।
কবে Dreams IT Park-এ যোগ দিয়েছেন?
আমি ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসের ৫ তারিখে এসেছি।
কেন এসেছিলেন?
নিজের কিছু করার ইচ্ছা ছিল, তাই ঘরে বসেই কাজ শুরু করতে চেয়েছিলাম। স্বাধীনভাবে নিজের মতো করে কাজ করা যাবে, এই চিন্তা থেকেই ফ্রিল্যান্সিং পেশায় আসা।
প্রথম দিনগুলো কেমন ছিল?
প্রথম দিনটি আমার জন্য অনেক ভয়ের ছিল। কারণ, আমি পাবনা থেকে পরিবারের মতের বিরুদ্ধে এখানে এসেছিলাম। এরপর সকালে প্রায় ৬টার দিকে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। আমি DIP-এর গেটের সামনে প্রায় ৩ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিলাম। কাউকে ফোন করলেও কেউ ফোন রিসিভ করছিল না। কারণ, সবাই রাত জেগে কাজ করেছিল। আমি বিষয়টি বুঝতে পারছিলাম, তারপরও মনের মধ্যে ভয় কাজ করছিল। অবশেষে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে যখন গেট খুলল, তখন মনে অনেকটা স্বস্তি পেলাম। মনে হচ্ছিল, অবশেষে একটা নিশ্চিন্ত জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছি।
কে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে?
কিছু মানুষের নাম আমার সারা জীবন মনে থাকবে। তাঁদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলেন শাহরিয়ার ভাই ও নাহিদ ভাই। এই দুজন মানুষের কাছে আমি নির্দ্বিধায় মনের কথা বলতে পারতাম। তাঁদের সঙ্গে নিজের ভালো-মন্দ, সুখ-দুঃখ সবকিছু ভাগ করে নিতে পারতাম। তাঁদের কাছ থেকে যে আন্তরিকতা ও সহযোগিতা পেয়েছি, তা কখনো ভুলব না।
প্রথম অর্ডার পাওয়ার অনুভূতি কেমন ছিল?
এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। কারণ, অনেক দিন অপেক্ষা করার পরও আমি অর্ডার পাচ্ছিলাম না। হয়তো তখন ভাগ্য আমার সহায় ছিল না। অবশেষে আমার প্রথম অর্ডারটি আসে মালেক ভাইয়ের হাত ধরে। সেই দিনের আনন্দ বলে বোঝাতে পারব না। প্রথম অর্ডার পাওয়ার পর সারা রাত আমার চোখে ঘুম আসেনি। বারবার মনে হচ্ছিল, অবশেষে আমিও পেরেছি! সেই দিনটির কথা আমার সারাজীবন মনে থাকবে।
আপনার মেন্টর সম্পর্কে লিখুন
আমার মেন্টর একজন অসাধারণ ও অমায়িক মানুষ। তাঁর ব্যবহার, আন্তরিকতা এবং মানুষকে সহযোগিতা করার মানসিকতা সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি শুধু কাজ শেখান না, বরং ধৈর্য ধরে সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণাও দেন। তাঁর কাছ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। একজন ভালো মেন্টর হিসেবে তাঁর অবদান আমার জীবনে সবসময় স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সব মিলিয়ে এখানকার পরিবেশ কেমন?
সব মিলিয়ে এখানকার পরিবেশ আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে। এখানে কাজ শেখার পাশাপাশি নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। সবার আন্তরিকতা, সহযোগিতা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ আমাকে মুগ্ধ করেছে। এখানে এসে শুধু কাজই শিখিনি, বরং অনেক ভালো মানুষের সান্নিধ্য পেয়েছি, যাঁরা প্রতিনিয়ত আমাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। সব মিলিয়ে এখানকার পরিবেশ আমার কাছে একটি পরিবারের মতো।
সবচেয়ে কঠিন কী ছিল?
আমার কাছে সবচেয়ে কঠিন ছিল প্রথম অর্ডার পাওয়া। অনেক দিন ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হয়েছে, অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু অর্ডার পাচ্ছিলাম না। মাঝে মাঝে হতাশাও কাজ করত। তবে হাল ছেড়ে দিইনি। অবশেষে প্রথম অর্ডার পাওয়ার পর মনে হয়েছে, আমার এত দিনের পরিশ্রম ও অপেক্ষা সার্থক হয়েছে।
কী কী শিখেছেন?
এখানে এসে আমি অনেক কিছু শিখেছি। বিশেষ করে একটি ল্যাব কীভাবে পরিচালিত হয়, একটি টিম কীভাবে একসঙ্গে কাজ করে, কীভাবে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হয় এবং কীভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে আবার ঘুরে দাঁড়াতে হয়, এসব বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। এখানে শেখার অনেক কিছু আছে। প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শিখছি, নিজেকে আরও দক্ষ করে তুলছি। আমার মনে হয়, এই অভিজ্ঞতাগুলো ভবিষ্যতে আমার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজে আসবে।
এখন কেমন আছেন?
Alhumdullah...
আপনার স্বপ্ন কী?
আমার স্বপ্ন হলো ভালো কিছু শেখা, নিজেকে দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতে নিজের পরিচয়ে কিছু একটা করা। আমি চাই, নিজের মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে স্বাবলম্বী হতে এবং পরিবারের পাশে দাঁড়াতে। জীবনে এমন কিছু করতে চাই, যেন একদিন নিজের কাজের মাধ্যমে পরিবার ও আশপাশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারি।
Dreams IT Park সম্পর্কে আর কিছু বলার থাকলে লিখুন
Dreams IT Park আমার কাছে শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, বরং নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। এখানে এসে অনেক ভালো মানুষের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি, অনেক কিছু শিখেছি এবং জীবনের নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। এখানকার মেন্টর, ভাইয়েরা এবং পুরো টিমের আন্তরিক সহযোগিতা আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করেছে। আমি Dreams IT Park-এর প্রতি কৃতজ্ঞ। আশা করি, এই প্রতিষ্ঠান আরও অনেক তরুণের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ তৈরি করবে এবং সাফল্যের পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।
আমার পরামর্শ থাকবে, যারা Dreams IT Park-এ আসতে চান, তারা অবশ্যই নিজের মধ্যে শেখার আগ্রহ, ধৈর্য এবং পরিশ্রম করার মানসিকতা নিয়ে আসবেন। এখানে শুধু ফ্রিল্যান্সিং শেখার সুযোগই নয়, বরং বাস্তব কাজের মাধ্যমে নিজেকে দক্ষ করে তোলার এবং একটি সুন্দর ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে। শুরুতে হয়তো অনেক কিছু কঠিন মনে হবে, অর্ডার পেতে সময় লাগবে, হতাশাও আসতে পারে। কিন্তু ধৈর্য হারানো যাবে না। মেন্টরদের কথা মেনে
Nurul Amin Ruku



