মোহাম্মদ জাবির জাওয়াদ, in their own words
আমি ও আমার আব্বু আমাকে নিয়ে দেখা স্বপ্নগুলো পূরণ করতে এসেছিলাম। আমার স্বপ্ন ছিল, নিজেকে একজন যোগ্য ও সফল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা, আব্বুর মুখে হাসি ফোটানো এবং তাঁর স্বপ্নগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়া।
কবে Dreams IT Park-এ যোগ দিয়েছেন?
২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে
কেন এসেছিলেন?
আমি ও আমার আব্বু আমাকে নিয়ে দেখা স্বপ্নগুলো পূরণ করতে এসেছিলাম। আমার স্বপ্ন ছিল, নিজেকে একজন যোগ্য ও সফল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা, আব্বুর মুখে হাসি ফোটানো এবং তাঁর স্বপ্নগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়া।
প্রথম দিনগুলো কেমন ছিল?
শুরুর দিনগুলোতে নতুন পরিবেশ, নতুন কাজ এবং কাজের পদ্ধতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে আমার বেশ কষ্ট হতো। অনেক সময় নিজেকে একা লাগত, এমনকি হতাশও হয়ে পড়তাম। প্রথম দিন থেকেই মনে অনেক কৌতূহল ছিল—কীভাবে নিজের দক্ষতা বাড়াব, পরিবেশটা কেমন হবে এবং সবার কাছ থেকে কতটা সহযোগিতা পাব।
যত দিন যেতে লাগল, আমার কাছে সবকিছু তত সহজ ও আনন্দময় হয়ে উঠল। শেখার পরিবেশ, সবার সহযোগিতা এবং সঠিক দিকনির্দেশনা আমাকে নতুন করে আত্মবিশ্বাসী করে তুলল। আমি বুঝতে পারলাম, ধৈর্য, পরিশ্রম এবং শেখার আগ্রহ থাকলে যেকোনো কঠিন পথই ধীরে ধীরে সহজ হয়ে ওঠে।
কে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে?
Dreams IT Park-এ আমার এই যাত্রাকে সহজ ও সুন্দর করে তুলতে আনোয়ার ভাইয়া, ম্যানেজার ও গ্রুপ লিডার মহসিন ভাইয়া এবং গ্রুপ লিডার নাহিদ ভাইয়ার অবদান অনেক। তাঁরা আমাকে প্রতিটি পদক্ষেপে সহযোগিতা ও সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে পাশে থেকেছেন। বিশেষ করে নতুন কিছু শেখার সময় যখনই কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি, তাঁরা আমাকে সাহায্য করেছেন এবং সাহস জুগিয়েছেন। নাহিদ ভাইয়াও সব সময় বিভিন্ন বিষয়ে আমাকে সহযোগিতা করেছেন। তাঁদের আন্তরিকতা, সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা আমাকে নতুন করে আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করেছে। তাঁদের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।
প্রথম অর্ডার পাওয়ার অনুভূতি কেমন ছিল?
অনেক আনন্দময়।
আপনার মেন্টর সম্পর্কে লিখুন
আমাদের মেন্টর রাজু স্যার খুবই ভালো, আন্তরিক ও সহযোগিতাপূর্ণ একজন মানুষ। তাঁর শেখানোর পদ্ধতি অনেক সুন্দর ও সহজ, যার ফলে নতুন নতুন বিষয় বুঝতে আমার অনেক সুবিধা হয়। তিনি ধৈর্য ধরে প্রতিটি বিষয় বুঝিয়ে দেন এবং আমাদের শেখার জন্য সব সময় উৎসাহিত করেন। তাঁর কাছ থেকে শুধু কাজ শেখাই নয়, বরং কীভাবে নিজের দক্ষতা বাড়িয়ে ভবিষ্যতে সফল হওয়া যায়, সে বিষয়েও অনেক কিছু শিখতে পারছি। তাঁর সুন্দর ব্যবহার, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং অনুপ্রেরণা আমাকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করছে। এমন একজন আন্তরিক ও বন্ধুসুলভ মেন্টরের কাছ থেকে শেখার সুযোগ পেয়ে আমি সত্যিই আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ।
সব মিলিয়ে এখানকার পরিবেশ কেমন?
Dreams IT Park-এর পরিবেশ আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। এখানে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল একটি পরিবেশের মধ্যে থাকা যায়। সময়মতো ঘুম থেকে ওঠা, নামাজ আদায় করা, খাবারের সময় মেনে চলা এবং প্রতিদিনের কাজগুলো নিয়ম অনুযায়ী করার অভ্যাস গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, ফ্রিল্যান্সিং শেখার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও সুন্দর শেখার পরিবেশও এখানে রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে এখানে থেকে নিজের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপন করা এবং ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার সুযোগ পাচ্ছি।
সবচেয়ে কঠিন কী ছিল?
ফ্রিল্যান্সিং শেখার আগে কম্পিউটার সম্পর্কে আমার তেমন কোনো ধারণা ছিল না। ফ্রিল্যান্সিং কী, কীভাবে কাজ করতে হয়, কিংবা কীভাবে অনলাইন মার্কেটপ্লেসে নিজের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আয় করা যায়—এসব বিষয়ই আমার কাছে একেবারেই নতুন ছিল। কিন্তু Dreams IT Park-এ আসার পর ধীরে ধীরে সবকিছু শিখতে শুরু করি। এখানকার সুন্দর পরিবেশ, সবার সহযোগিতা এবং সঠিক দিকনির্দেশনা আমাকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে। এখন আমি নিজের দক্ষতা বাড়িয়ে একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি।
কী কী শিখেছেন?
Dreams IT Park-এ এসে আমি ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে অনেক নতুন বিষয় শিখতে পারছি। এখানে আসার আগে কম্পিউটার ও ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে আমার তেমন কোনো ধারণা ছিল না। কিন্তু এখন ধীরে ধীরে ডিজিটাল মার্কেটিং, ক্লায়েন্ট হান্টিং, ভিডিও এডিটিং, মিডিয়া মার্কেটিং, SEO, কনটেন্ট তৈরি ও প্রমোশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শিখছি।
পাশাপাশি কীভাবে অনলাইনে ক্লায়েন্ট খুঁজতে হয়, ক্লায়েন্টদের সঙ্গে ভালোভাবে যোগাযোগ করতে হয় এবং নিজের কাজকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে হয়, সেসব বিষয়েও জ্ঞান অর্জন করছি। নতুন নতুন প্রযুক্তি ও AI টুলস ব্যবহার করে কীভাবে কাজকে আরও সহজ ও সুন্দর করা যায়, তা শেখার সুযোগ পাচ্ছি।
এখন কেমন আছেন?
আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি অনেক ভালো আছি।
আপনার স্বপ্ন কী?
আমার স্বপ্ন হলো, একজন সফল ফ্রিল্যান্সার ও দক্ষ ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। নিজের যোগ্যতায় ভালো কিছু করা, পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো এবং আমার আব্বুর দেখা স্বপ্নগুলো পূরণ করাই আমার জীবনের অন্যতম লক্ষ্য। ইনশাআল্লাহ, কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য ও সততার সঙ্গে নিজের লক্ষ্যে পৌঁছাতে চাই।
“যারা Dreams IT Park-এ আসতে চায়, তাদের মধ্যে শেখার আগ্রহ, মনে দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি এবং জীবনে সফল হওয়ার জেদ থাকতে হবে। নতুন পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস রাখতে হবে। কারণ, এখানে সফল হতে হলে মনোযোগ দিয়ে শেখা, কঠোর পরিশ্রম করা এবং নিজের লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকা খুবই জরুরি।”

