MD Mohasin, in their own words
আমি সবসময় নতুন কিছু শিখতে এবং নিজের দক্ষতা দিয়ে ভালো কিছু করতে পছন্দ করি।
কবে Dreams IT Park-এ যোগ দিয়েছেন?
২০২৫ সালের মার্চ মাসে
কেন এসেছিলেন?
আমি সবসময় নতুন কিছু শিখতে এবং নিজের দক্ষতা দিয়ে ভালো কিছু করতে পছন্দ করি।
প্রথম দিনগুলো কেমন ছিল?
আমার জন্য প্রথম দিনগুলো সত্যিই একটু অন্যরকম ছিল। আমি অন্য জেলা থেকে সিলেটে এসেছিলাম। এখানকার মানুষের ভাষা বুঝতে কিছুটা কষ্ট হতো। পরিচিত কেউ ছিল না, সবকিছুই ছিল নতুন. মানুষ, পরিবেশ, সবকিছু। তার ওপর আমার কম্পিউটারের প্রাথমিক জ্ঞানও খুব একটা ভালো ছিল না। সব মিলিয়ে শুরুটা আমার জন্য সহজ ছিল না। তবে আমি হাল ছেড়ে দিইনি। ধীরে ধীরে শেখার চেষ্টা করেছি, নিজের দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করেছি। আলহামদুলিল্লাহ, আজও সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ, সামনে আরও ভালো কিছু করতে চাই।
কে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে?
আমাদের প্রিয় মেন্টর আখলাকুল আম্বিয়া রাজু স্যার এমন একটি পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছেন, যেখানে সবাই সবাইকে সহযোগিতা করে এবং একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় । আমি যখন ল্যাব-২-তে ছিলাম, তখন অনেক সিনিয়র ভাই আমাকে সাহায্য করেছেন। অন্যদের তুলনায় আমার বিষয়গুলো বুঝতে একটু বেশি সময় লাগত, কিন্তু তারা আমাকে সহযোগিতা করেছেন।
এরপর আমি নতুন একটি AI প্রজেক্টে কাজ করার সুযোগ পাই। সেখানে রাজু স্যার নিজে আমাদের খুব সুন্দরভাবে শিখিয়েছেন এবং নতুন একটি দক্ষতা তৈরি করতে সাহায্য করেছেন। সেই প্রজেক্ট শেষ করে যখন ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে কাজ শুরু করি, তখন বিশেষ করে তুহিন ভাই ও শুভ্র ধর দাদা আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন।
সত্যি বলতে, এই পথচলায় আমি একা ছিলাম না। সবার সহযোগিতা, পরামর্শ ও শেখানোর মানসিকতা আমাকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। তাদের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।
প্রথম অর্ডার পাওয়ার অনুভূতি কেমন ছিল?
আমি যখন এই প্রতিষ্ঠানে যোগ দিই, তখন আমার সঙ্গে আরও কয়েকজন যোগ দিয়েছিলেন। আবার আমার কয়েক দিন পরেও কয়েকজন নতুন করে যোগ দেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আমার পরে যোগ দিয়েও আমার আগে অর্ডার পেয়ে যান, কিন্তু আমার অর্ডার আসছিল না। তখন সত্যি বলতে অনেক টেনশনে ছিলাম। মনে হতো, কবে আমার প্রথম অর্ডার আসবে!
এভাবে কয়েক মাস অপেক্ষা করার পর অবশেষে আমার প্রথম অর্ডারটি আসে। সেই মুহূর্তের অনুভূতি সত্যিই অসাধারণ ছিল। এত দিনের অপেক্ষা, চিন্তা আর চেষ্টা যেন সেদিন একটু হলেও সার্থক মনে হয়েছিল। প্রথম অর্ডারটি আমাকে নতুন করে আত্মবিশ্বাস দিয়েছিল এবং আরও ভালোভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল।
আপনার মেন্টর সম্পর্কে লিখুন
আমার মেন্টর আখলাকুল আম্বিয়া রাজু স্যার সম্পর্কে লিখতে গেলে হয়তো লেখা শেষ হবে না। তিনি এমন একজন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ, যিনি তাঁর প্রতিটি শিক্ষার্থীর মানসিকতা ও মনস্তত্ত্ব বোঝার চেষ্টা করেন এবং সেই অনুযায়ী তাদের সঙ্গে আচরণ করেন। তিনি জানেন, সবার চিন্তাভাবনা এক নয়, সবার শেখার ধরনও এক নয়। তাই তিনি প্রত্যেককে নিজের মতো করে বুঝিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেন। আমার কাছে তিনি শুধু একজন মেন্টর নন, বরং এমন একজন মানুষ, যাঁর কাছ থেকে কাজ শেখার পাশাপাশি জীবনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণাও পাওয়া যায়। তাঁর এই গুণগুলোই তাঁকে আমার কাছে বিশেষ একজন মানুষ করে তুলেছে।
সব মিলিয়ে এখানকার পরিবেশ কেমন?
এখানকার পরিবেশ সত্যিই দারুণ। আমরা সবাই মিলে একটা পরিবারের মতো থাকি। সবাই সবাইকে সাহায্য করি, একে অপরের পাশে থাকি এবং একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি।
সবচেয়ে কঠিন কী ছিল?
সবচেয়ে কঠিন ছিল নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া। সবকিছু একটা নির্দিষ্ট রুটিনে চলত, তাই শুরুতে একটু কষ্ট হয়েছিল। তবে ধীরে ধীরে নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে নিজের কাজগুলো বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করেছি।
কী কী শিখেছেন?
আমি এখানে এসে একদম বেসিক থেকে অনেক কিছু শিখেছি। ডিজিটাল মার্কেটিং, ক্লায়েন্ট কমিউনিকেশন এবং AI টুল ব্যবহার করে কাজ করার দক্ষতা অর্জন করেছি। প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার মাধ্যমে নিজের দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করছি।
আপনার স্বপ্ন কী?
আমার স্বপ্ন হলো নিজেকে আরও দক্ষ করে এই সেক্টরে একটি ভালো ক্যারিয়ার গড়ে তোলা। নিজের দক্ষতা বাড়াতে চাই এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করতে চাই।
“যারা নিজের দক্ষতা বাড়াতে চান, কাজ করার মানসিকতা রাখেন এবং ধৈর্য ধরে পরিশ্রম করতে প্রস্তুত, আমি তাদের Dreams IT Park-এ আসার পরামর্শ দেব।”




