Jaber Ahmed: নিজের কথায়
আমি ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট Dreams IT Park-এ যোগ দিয়েছিলাম, মনের মধ্যে একটি স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের একটি লক্ষ্য নিয়ে।
কবে Dreams IT Park-এ যোগ দিয়েছেন?
আমি ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট Dreams IT Park-এ যোগ দিয়েছিলাম, মনের মধ্যে একটি স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের একটি লক্ষ্য নিয়ে।
কেন এসেছিলেন?
আমি এসেছিলাম একটি স্বপ্ন নিয়ে, ডিজিটাল মার্কেটিং শিখে নিজের একটি সুন্দর ক্যারিয়ার গড়ে তোলার স্বপ্ন। আলহামদুলিল্লাহ, আজ আমি ধীরে ধীরে শিখছি, নিজেকে দক্ষ করে তুলছি এবং আমার স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছি।
প্রথম দিনগুলো কেমন ছিল?
আমি যখন প্রথম Dreams IT Park-এ এসেছিলাম, তখন সবকিছুই ছিল আমার কাছে অচেনা। চারপাশের পরিবেশ, মানুষজন, কাজের ধরন, সবকিছুই যেন এলোমেলো মনে হতো। নিজেকে সবার সঙ্গে মানিয়ে নিতে বেশ কষ্ট হচ্ছিল।
কিন্তু ধীরে ধীরে যখন মনের মধ্যে স্বপ্ন আর নিজের কিছু করার জেদ তৈরি হতে শুরু করল, তখন আমিও নিজেকে এই পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শিখলাম। একসময় এই অচেনা পরিবেশই হয়ে উঠল আমার পরিচিত জায়গা। আর এভাবেই সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে শুরু করলাম নিজের স্বপ্ন পূরণের যাত্রা।
কে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে?
Dreams IT Park-এ আসার পর প্রথম যে সাপোর্টটি পেয়েছিলাম, তা ছিল সাহারিয়া ভাইয়ের কাছ থেকে। একেবারে হাতেকলমে তিনি আমাকে শিখিয়েছিলেন কীভাবে একটি PC অন করতে হয়, কীভাবে মাউস চালাতে হয়, বলতে গেলে কম্পিউটারের একদম প্রাথমিক বিষয়গুলোই তাঁর কাছ থেকে শেখা। তিনি শুধু টেকনিক্যাল সাপোর্টই দেননি, অনেক কঠিন সময়ে মানসিকভাবেও সাহস ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। তাঁর হাত ধরেই মূলত আমার এই যাত্রার শুরু।
এরপর আরেকজনের কথা না বললেই নয়—shuvro Dhar Dada । তিনিও আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন.
এভাবেই ধীরে ধীরে কাজ শেখা এবং কাজ শুরু করা। সময়ের সঙ্গে নিজের দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকি। এরপর ল্যাব পরিবর্তন হয়। নতুন ল্যাবে এসে Lab-02-এর সিনিয়র ভাই জহির ভাইয়ের কাছ থেকে সহযোগিতা পেতে থাকি। পরবর্তীতে জহির ভাই চলে যাওয়ার পর নাহিদ ভাই এবং এরপর মহসিন ভাইয়ের কাছ থেকেও বিভিন্ন সময়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা পেয়েছি।
এভাবেই সিনিয়র ভাইদের সহযোগিতা, ভালোবাসা ও দিকনির্দেশনা নিয়ে আমার শেখার এবং এগিয়ে চলার যাত্রা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
আজ আমি যতটুকু শিখতে পেরেছি এবং যতটুকু এগিয়ে এসেছি, তার পেছনে তাঁদের প্রত্যেকের অবদান অনেক বেশি। তাঁদের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।
প্রথম অর্ডার পাওয়ার অনুভূতি কেমন ছিল?
আমি যখন Dreams IT Park-এ যোগ দিই, তখন AI প্রজেক্ট দিয়েই আমার কাজের যাত্রা শুরু হয়েছিল। প্রায় দেড় মাস এই প্রজেক্টে কাজ করার পর শুরু হয় আমার ডিজিটাল মার্কেটিং শেখা ও কাজ করার নতুন অধ্যায়। এরপর ধীরে ধীরে কাজ শিখতে থাকি এবং নিজের দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাই।
একসময় জীবনের প্রথম অর্ডার পাওয়ার সুযোগ আসে। আর সেই প্রথম অর্ডারটি পাওয়ার পথ তৈরি করে দিয়েছিলেন শুভ্র ধর দাদা। জীবনের প্রথম অর্ডার পাওয়ার পর যে আনন্দ ও আত্মবিশ্বাস অনুভব করেছিলাম, তা সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। সেই মুহূর্তটি আমার কাছে আজও অনেক বিশেষ এবং স্মরণীয়।
কারণ, সেটি শুধু একটি অর্ডার ছিল না; বরং নিজের শেখা, পরিশ্রম ও স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রথম সাফল্যের অনুভূতি ছিল।
আপনার মেন্টর সম্পর্কে লিখুন
Dreams IT Park-এর Founder ও মেন্টর এবং Motivational Speaker আখলাকুল আম্বিয়া রাজু স্যার-এর অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই। তাঁর প্রতি আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।
তিনি যদি এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে না তুলতেন, তাহলে হয়তো আজ আমার মতো অসংখ্য তরুণের স্বপ্ন পূরণের পথ তৈরি হতো না। Dreams IT Park শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি যেন স্বপ্ন বোনার এক কারখানা, যেখানে অসংখ্য তরুণ নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শেখে, নিজেকে দক্ষ করে তোলে এবং নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ পায়।
আমার বিশ্বাস, তাঁর এই উদ্যোগ শুধু আমার নয়, আরও অনেক তরুণের জীবনে পরিবর্তন আনার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এমন একটি স্বপ্নের ঠিকানা তৈরি করার জন্য তাঁর প্রতি রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও সম্মান।
সব মিলিয়ে এখানকার পরিবেশ কেমন?
সব মিলিয়ে Dreams IT Park-এর সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো এখানকার বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ। এখানে সবাই একে অপরের সঙ্গে মিলেমিশে থাকে, একে অপরকে সহযোগিতা করে এবং প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ায়। সিনিয়ররা জুনিয়রদের কাজ শেখান, ভুলগুলো শুধরে দেন এবং মানসিকভাবে সাহস জোগান। সবাই মিলে একে অপরের সহযোগিতায় সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি।
সবচেয়ে কঠিন কী ছিল?
শুধু Dreams IT Park-এই নয়, আপনি যে সেক্টরেই কাজ করুন না কেন, ধৈর্য ধরে নিজের লক্ষ্যে অটুট থেকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। সফলতা একদিনে আসে না। নিয়মিত শেখা, পরিশ্রম করা এবং নিজের ওপর বিশ্বাস রাখাই আপনাকে একদিন আপনার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে।
কী কী শিখেছেন?
শুধু ডিজিটাল মার্কেটিং শেখাই নয়, এর পাশাপাশি সময়ের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন হওয়া, বাস্তব ও কারিগরি শিক্ষা অর্জন করা এবং একজন দক্ষ মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার শিক্ষাও পেয়েছি। কীভাবে নিজের ক্যারিয়ারকে উন্নত করতে হয়, জীবনের চলার পথে ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হয়, ধৈর্য ধরে প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে হয়
কারণ, জীবনে সফল হতে হলে শুধু একটি দক্ষতা অর্জন করলেই হয় না; প্রয়োজন ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রম এবং নিজের স্বপ্নের পেছনে নিরলসভাবে ছুটে চলার মানসিকতা।
এখন কেমন আছেন?
আলহামদুলিল্লাহ, বর্তমানে অনেক ভালো আছি। আগের তুলনায় নিজেকে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী মনে হয়। প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শিখছি, নিজের দক্ষতা বাড়াচ্ছি এবং ধীরে ধীরে নিজের স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।
আপনার স্বপ্ন কী?
আমার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন হলো, একদিন Dreams IT Park-এর মতো আমিও নিজের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলব। এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে আমার মতো স্বপ্নবাজ তরুণ-তরুণীরা নিজেদের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পাবে, নতুন কিছু শিখতে পারবে এবং নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারবে। তাদের সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে পথ চলতে চাই, তাদের স্বপ্ন পূরণের যাত্রায় সহযোগী হতে চাই।
আমি চাই, একদিন আমিও কারও স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা হয়ে উঠি এবং নতুন প্রজন্মের স্বপ্নবাজ তরুণদের নিয়ে সুন্দর একটি ভবিষ্যৎ গড়ে তুলি।
যারা Dreams IT Park-এ আসতে চাও, তাদের জন্য আমার ছোট্ট একটি বার্তা, তোমরা শুধু এই প্রতিষ্ঠানেই নয়, জীবনে যে প্রতিষ্ঠানেই যাও বা যে সেক্টরেই কাজ করো না কেন, নিজের মধ্যে স্বপ্ন, জেদ, সততা ও ধৈর্য ধরে রাখতে হবে। কারণ, সফল হওয়ার জন্য শুধু একটি ভালো প্রতিষ্ঠান বা সুন্দর পরিবেশই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নিজের চেষ্টা, পরিশ্রম এবং শেখার আগ্রহ। Dreams IT Park-এ আমি যে স্বপ্ন দেখার সাহস, শেখার পরিবেশ, সহযোগিতা
Jaber Ahmed