Hossain Ahmed, in their own words
আমার বড় ভাইয়ের কাছ থেকে প্রথম IT সেক্টর সম্পর্কে জানতে পারি। তাঁর অনুপ্রেরণায় এই সেক্টরের প্রতি আমার আগ্রহ তৈরি হয় এবং নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার একটি নতুন স্বপ্ন দেখি। সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই আমি Dr…
কবে Dreams IT Park-এ যোগ দিয়েছেন?
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে
কেন এসেছিলেন?
আমার বড় ভাইয়ের কাছ থেকে প্রথম IT সেক্টর সম্পর্কে জানতে পারি। তাঁর অনুপ্রেরণায় এই সেক্টরের প্রতি আমার আগ্রহ তৈরি হয় এবং নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার একটি নতুন স্বপ্ন দেখি। সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই আমি Dreams IT Park-এ এসেছিলাম, যেন IT বিষয়ে নতুন কিছু শিখতে পারি, নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারি এবং ভবিষ্যতে নিজের যোগ্যতায় ভালো কিছু অর্জন করতে পারি।
প্রথম দিনগুলো কেমন ছিল?
প্রথম দিনটি আমার জন্য ছিল সম্পূর্ণ নতুন একটি অভিজ্ঞতা। নতুন পরিবেশে এসে মনে একদিকে যেমন কিছুটা ভয় ও সংকোচ কাজ করছিল, অন্যদিকে তেমনি ছিল নতুন কিছু শেখার এবং নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার অনেক আগ্রহ। সবকিছুই আমার কাছে নতুন মনে হচ্ছিল। তবে মনে মনে একটি বিশ্বাস ছিল, আমি যদি মনোযোগ দিয়ে শিখি এবং পরিশ্রম করি, তাহলে একদিন নিজের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব। নতুন স্বপ্ন ও অনেক আশা নিয়ে আমার এই পথচলা শুরু হয়েছিল।
কে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে?
আমাকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছেন আমার বড় ভাই। তাঁর কাছ থেকেই আমি প্রথম IT সেক্টর সম্পর্কে জানতে পারি এবং এই সেক্টরে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার অনুপ্রেরণা পাই। তাঁর দিকনির্দেশনা আমাকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে এবং সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য এগিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে। পাশাপাশি, Dreams IT Park-এ শেখার সুযোগ ও এখানকার পরিবেশ আমাকে নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে এবং প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শিখতে অনুপ্রাণিত করেছে। আমি তাঁদের সবার প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।
প্রথম অর্ডার পাওয়ার অনুভূতি কেমন ছিল?
Dreams IT Park-এ আসার পর প্রথম এক মাস আমার কোনো অর্ডার ছিল না। তবুও আমি হাল ছাড়িনি। নিজের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছি এবং অপেক্ষা করেছি সেই দিনটির, যেদিন নিজের পরিশ্রমের প্রথম সফলতা দেখতে পাব।
এক মাস পর যখন ঈদ চলে আসে, তখন আমার মনেও বাড়ি যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু নিজের লক্ষ্য পূরণ করার এবং জীবনে কিছু একটা করার তাগিদে আমি ঈদের সময়ও বাড়ি না গিয়ে Dreams IT Park-এ থেকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। সেই সময়টা আমার জন্য সহজ ছিল না। পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপন করতে না পারার কষ্ট ছিল, কিন্তু মনে আশা ছিল একদিন আমার এই ত্যাগ ও পরিশ্রমের ফল পাব।
অবশেষে যখন আমার জীবনের প্রথম অর্ডারটি পেলাম, তখন মনে হয়েছিল আমার অপেক্ষা, ধৈর্য ও পরিশ্রম সার্থক হতে শুরু করেছে। সেই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমার গ্রুপ লিডার ও ল্যাব লিডারের সহযোগিতা এবং দিকনির্দেশনাও এই অর্জনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
আমার প্রথম অর্ডারটি আমার কাছে শুধু একটি কাজ ছিল না; এটি ছিল আমার আত্মবিশ্বাস, স্বপ্ন এবং ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রথম বড় অনুপ্রেরণা। সেই দিনটি আমার জীবনের স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি হয়ে থাকবে। আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহর কাছে আমি কৃতজ্ঞ।
আপনার মেন্টর সম্পর্কে লিখুন
আমার জীবনের পথচলায় Dreams IT Park এর CEO স্যারের অবদান আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শুধু আমাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য দিকনির্দেশনা দেন না, বরং কীভাবে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে হয় এবং জীবনে সঠিক পথে এগিয়ে যেতে হয়, সেই বিষয়েও আমাদের অনুপ্রাণিত করেন।
স্যারের দিকনির্দেশনা থেকে আমি নিজের স্বপ্ন পূরণ করার এবং ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার পথ খুঁজে পেয়েছি। স্যারের পরামর্শ আমাকে বুঝতে সাহায্য করেছে, জীবনে সফল হতে হলে শুধু স্বপ্ন দেখলেই হয় না বরং সঠিক পরিকল্পনা, ধৈর্য, নিয়মিত পরিশ্রম এবং শেখার আগ্রহ থাকা প্রয়োজন।
আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ যে, স্যার আমাকে Dreams IT Park এর মতো একটি প্রতিষ্ঠানে শেখার ও নিজের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ দিয়েছেন। এখানে শেখার মাধ্যমে আমি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে শিখেছি এবং নিজের লক্ষ্যের প্রতি আরও আত্মবিশ্বাসী হয়েছি।
স্যারের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা সবসময় থাকবে। আমি দোয়া করি, মহান আল্লাহ যেন স্যারকে সবসময় সুস্থ ও ভালো রাখেন, তাঁর জীবনে বরকত দান করেন
সব মিলিয়ে এখানকার পরিবেশ কেমন?
Dreams IT Park-এর পরিবেশ নিয়ে আমি সত্যিই গর্বিত। এখানে আসার পর থেকে আমি দেখেছি, নতুন কেউ এলে সবাই তাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানায়, সহযোগিতা করে এবং যত্নের সঙ্গে আপন করে নেয়। এখানকার অফিস অ্যাডমিন ভাইয়েরা থেকে শুরু করে সবাই নতুনদের পাশে দাঁড়ান এবং তাদের শেখার ও এগিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহ দেন।
Dreams IT Park-এর সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো, এখানে ছোটবড়, সিনিয়র জুনিয়র সবাই একে অপরকে আন্তরিকভাবে সম্মান করেন। সবাইকে ভাইয়া বলে সম্বোধন করার মধ্যেও একটি সুন্দর পারিবারিক বন্ধন ও আন্তরিকতা অনুভব করা যায়। আমার কাছে মনে হয়, এটি শুধু একটি কর্মক্ষেত্র নয়; বরং এমন একটি পরিবার, যেখানে সবাই সবার পাশে থেকে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
এখানকার সহযোগিতাপূর্ণ পরিবেশ আমাকে প্রতিদিন নতুন কিছু শিখতে, নিজের দক্ষতা বাড়াতে এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করে। আমি মনে করি, একটি প্রতিষ্ঠানের সফলতার জন্য দক্ষতা ও সুযোগের পাশাপাশি সুন্দর পরিবেশ পারস্পরিক সম্মান এবং আন্তরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব দিক বিবেচনায় Dreams IT Park আমার কাছে একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান।
এমন একটি সুন্দর ও সহযোগিতাপূর্ণ পরিবেশের অংশ হতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত ও গর্বিত।
সবচেয়ে কঠিন কী ছিল?
আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর মধ্যে একটি ছিল Dreams IT Park এ আসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়টি। নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে আমি এখানে ১৮ মাস থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত নেওয়া আমার জন্য সহজ ছিল না। এখানে আসার আগে আমাকে অনেক কিছু ভাবতে হয়েছে এবং নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
যখন আমি Dreams IT Park-এ আসার সিদ্ধান্ত নিই, তখন আমার সামনে অনেক অনিশ্চয়তা ছিল। নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া, পরিবারের পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে দূরে থাকা এবং নিজের লক্ষ্য পূরণের জন্য পরিশ্রম করা সবকিছুই ছিল আমার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবুও আমি বিশ্বাস করেছিলাম, জীবনে ভালো কিছু অর্জন করতে হলে কখনো কখনো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
অনেক চিন্তা ও দ্বিধার মধ্যেও আমি নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকার চেষ্টা করেছি। আমি মনে করেছিলাম, এই সুযোগটি আমার ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই কঠিন সময়কে ভয় না পেয়ে Dreams IT Park-এ এসে নিজের পথচলা শুরু করি।
আজ পেছনে ফিরে তাকালে বুঝতে পারি, সেই কঠিন সিদ্ধান্তটি আমার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ছিল। এই অভিজ্ঞতা আমাকে ধৈর্য ধরতে, নিজের সিদ্ধান্তের প্রতি দায়িত্বশীল থাকতে এবং ভবিষ্যতের জন্য সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে শিখিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, জীবনের কঠিন সিদ্ধান্তগুলোই অনেক সময় আমাদের নতুন সম্ভাবনার পথ দেখায়।
কী কী শিখেছেন?
Dreams IT Park-এ এসে আমি সবচেয়ে বেশি শিখেছি নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস রাখতে, নিজের দক্ষতাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে এবং লক্ষ্য পূরণের জন্য সামনের দিকে এগিয়ে যেতে। আগে কম্পিউটার সম্পর্কে আমার তেমন কোনো ধারণা ছিল না, কিন্তু IT সেক্টরে কাজ করার প্রতি আমার অনেক আগ্রহ ছিল। এখানে এসে আমি বুঝতে শিখেছি, শেখার আগ্রহ ও নিজের প্রতি বিশ্বাস থাকলে ধীরে ধীরে নিজের দক্ষতা তৈরি করা সম্ভব।
আমি শিখেছি কীভাবে নিজের যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন সুযোগ তৈরি করতে হয়, কীভাবে ধৈর্য ধরে পরিশ্রম করতে হয় এবং কীভাবে বাধা এলেও নিজের লক্ষ্য থেকে পিছিয়ে না গিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হয়। আমার কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন হলো নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস তৈরি করা এবং নিজের দক্ষতা দিয়ে ভবিষ্যতে ভালো কিছু করার সাহস অর্জন করা।
আমি বিশ্বাস করি, এই শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা আমাকে ভবিষ্যতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে এবং নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।
এখন কেমন আছেন?
এখন কেমন আছি, তা বলতে গেলে মনে হয় সময়টা যেন খুব দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। Dreams IT Park এ আসার আগে মনে অনেক চিন্তা ছিল কীভাবে সময় কাটবে, নতুন পরিবেশে কেমন থাকব, সবকিছুর সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারব কি না। কিন্তু এখানে আসার পর ধীরে ধীরে সবকিছু আপন হয়ে উঠেছে।
এখন Dreams IT Park-এ আমি অনেক ভালো আছি। এখানে অনেক সুন্দর মুহূর্ত কাটিয়েছি, অনেক কিছু শিখেছি এবং সবার আন্তরিকতা ও ভালোবাসা পেয়েছি। এখানকার পরিবেশ, সবার সঙ্গে কাটানো সময় এবং প্রতিদিনের অভিজ্ঞতাগুলো আমার জীবনের সুন্দর স্মৃতি হয়ে থাকবে।
তবে এখন মনে একটু মন খারাপও হয়, কারণ সময় খুব দ্রুত চলে যাচ্ছে। আসার আগে যে সময়টাকে অনেক দীর্ঘ মনে হয়েছিল, এখন মনে হচ্ছে সেই সময় কখন শেষ হয়ে যাচ্ছে বুঝতেই পারছি না। Dreams IT Park এ কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত আমার কাছে অনেক মূল্যবান হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে আমি এখন অনেক ভালো আছি, অনেক কিছু শিখছি এবং সুন্দর কিছু স্মৃতি তৈরি করছি। এখানকার এই সময়গুলো আমার জীবনের একটি বিশেষ অধ্যায় হয়ে থাকবে, যা ভবিষ্যতে মনে করলে সবসময় ভালো লাগবে।
আপনার স্বপ্ন কী?
আমার স্বপ্ন হলো নিজেকে একজন যোগ্য, আত্মনির্ভরশীল ও সৎ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। আমি চাই, নিজের দক্ষতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে একটি সুন্দর ক্যারিয়ার তৈরি করতে এবং নিজের যোগ্যতায় জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে। আমি সততার সঙ্গে নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে চাই, যেন নিজের উপার্জনে স্বাবলম্বী হতে পারি এবং নিজের জীবনকে সুন্দরভাবে উপভোগ করতে পারি।
আমার কাছে সফলতা মানে শুধু অর্থ উপার্জন করা নয়; বরং একজন ভালো মানুষ হওয়া, নিজের দায়িত্ব পালন করা এবং নিজের স্বপ্নগুলো পূরণ করে সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করা। আমি চাই, আমার কাজ ও যোগ্যতার মাধ্যমে নিজের পরিচয় তৈরি করতে এবং ভবিষ্যতে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে।
আমি বিশ্বাস করি, সঠিক লক্ষ্য, আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে একদিন নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারব। Dreams IT Park থেকে অর্জিত শিক্ষা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমি ধাপে ধাপে নিজের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে সততার সঙ্গে পরিশ্রম করে একটি সুন্দর, স্বাবলম্বী ও আনন্দময় জীবন গড়ে তোলাই আমার জীবনের মূল স্বপ্ন।
“যারা Dreams IT Park এ আসতে চান, তাদের জন্য আমার পরামর্শ হলো নিজের স্বপ্নের প্রতি বিশ্বাস রাখুন এবং শেখার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসুন। শুরুতে হয়তো অনেক কিছুই কঠিন মনে হবে, কিন্তু ধৈর্য ধরে চেষ্টা করলে ধীরে ধীরে সবকিছু শেখা সম্ভব। আমি নিজেও কম্পিউটার সম্পর্কে তেমন কিছু জানতাম না, কিন্তু IT সেক্টরে কাজ করার আগ্রহ নিয়ে এখানে এসেছি। এখন বুঝতে পারছি, নিজের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য এই যাত্রা কতটা গ”




